
আফতাবুল ইসলাম মেহরাব:
চাঁদপুর শহরে ‘মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে সন্তান হারানোর’ অভিযোগের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। শিশুটির মা শিউলি বেগম দাবি করেছেন, স্বামীর পরামর্শেই তিনি ৬ মাস বয়সী সন্তান লামহাকে অন্যের কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
চাঁদপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর ভাঙারপোল এলাকার বাসিন্দা শিউলি বেগমের সন্তান লামহাকে শহরের জেসমিন আক্তার ও তার স্বামী কামরুল ইসলাম আদালতের মাধ্যমে দত্তক নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
শিউলি বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী লিটন খান নিয়মিত কাজ করেন না এবং নেশায় জড়িত। সংসারের আর্থিক সংকট ও ঋণের কারণে স্বামীই সন্তানকে অন্যের কাছে দিয়ে টাকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে লিটন খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে লিটন খান দাবি করেছিলেন, স্ত্রী কিস্তির টাকা তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন এবং সন্তান দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
এদিকে শিশুটির নানী পারুল বেগম জানান, শনিবার রাতে আদালতের মাধ্যমে দত্তক নেওয়া শিশুটিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, দত্তক নেওয়া দম্পতির দেওয়া ৩০ হাজার টাকার বিপরীতে ৩৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে এসেছেন তারা।
এর আগে শিশুটিকে মলম পার্টির সদস্যরা নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হলেও পুলিশের অনুসন্ধানে আদালতের মাধ্যমে দত্তক দেওয়ার তথ্য বেরিয়ে আসে। চাঁদপুর সদর থানার ওসি মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে শিশুটির মা দত্তকের বিষয়টি স্বীকার করেন।
তবে শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেন এবং পরবর্তীতে শিশুকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আইনগতভাবে কতটা সঠিক ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
Reporter Name 











