
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভারী বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি লোহার বেইলি ব্রিজ ধসে পড়েছে। এ সময় ব্রিজের ওপর থাকা দুই শিশুসহ চারজন তীব্র স্রোতে ভেসে গেলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সোমবার সকাল থেকেই চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতে বেইলি ব্রিজটির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে থাকে। এ সময় দুই শিশুসহ চারজন ব্রিজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে হঠাৎ ব্রিজটি কাত হয়ে ধসে পড়ে। মুহূর্তেই তারা স্রোতে ভেসে যান। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রিজটি ভেঙে পড়ার সময় আশপাশের লোকজন ‘ওহ আল্লাহ, রক্ষা করো’ বলে চিৎকার করছেন। তবে ভিডিওটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর জামান জানান, ব্রিজ ধসের ঘটনায় স্রোতে ভেসে যাওয়া দুই শিশুসহ চারজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেছেন। তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এদিকে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চেল্লাখালী, ভোগাই, মহারশী, সোমেশ্বরী ও কর্ণঝোড়া নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির কারণে নালিতাবাড়ী উপজেলার কয়েকটি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার অন্তত ৮ থেকে ১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে সবজি খেত, আমনের বীজতলা এবং ভেসে গেছে শতাধিক মাছের ঘের। এছাড়া শেরপুর-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কের কয়েকটি স্থানে পানি ওঠায় ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন পানিবন্দী এলাকায় নৌকাযোগে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য শুকনো খাবার ও ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
Reporter Name 




















