
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়নের মেনাপুর মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য বরাদ্দের ২ টন চালের মধ্যে ১টনই আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর কাজীর বিরুদ্ধে। শুধু চাল আত্মসাৎই নয়, বরাদ্দের ওই চাল আনার সময় ২ হাজার টাকা উৎকোচও পকেটে ঢুকিয়েছেন এই ইউপি সদস্য।
২৬ জুলাই রোববার এতিমখানায় গেলে এর স্টক রেজিষ্টার হতে এসব তথ্য পাওয়া যায়। যার সত্যতা নিশ্চিত করেন এতিমখানার পরিচালক ও মসজিদের খতিব মুফতি শাহাদাত হোসাইন।
তিনি জানান, আমাদের এতিমখানার জি আর বরাদ্দ হচ্ছে ২ টন চাউল।যা কাগজেও লেখা। কিন্তু আমাদের এতিমখানার এই এতিম শিশুদের বরাদ্দের ১ টন চাউল কম দিয়েছে ইউপি সদস্য আলমগীর কাজী। শুধু তাই নয়, ওই ১ টন চাউল আনার সময়ও তাকে উৎকোচ হিসেবে ২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এখন ওনারা প্রভাবশালী লোক। ওনাদের এই কথা জানাজানি হলে আমার ও এতিমখানার আগামীর বরাদ্দ নিয়ে নয়ছয় করে কিনা সে আতঙ্কে মুখ খুলতে ভয় পাই।
মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার ঈসমাইল মুন্সি ও স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালে একজন স্বপ্নদ্রষ্টা আবু ইউসুফের হাত ধরে এই মসজিদ ও এতিমখানার যাত্রা শুরু হয়। যেখানে মসজিদ সাড়ে ২১ শতক জমিতে এবং এতিমখানা ২১ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর মরহুম আবু ইউসুফের ৩ ছেলে জমিদাতা ইকবাল হাসান চৌধুরী, মাসুদুর রহমান ও ফয়সাল চৌধুরী পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে জমি দেয়ার কাজ সম্পন্ন করেছেন। যেখানে বর্তমানে এতিমখানায় প্রায় ২শ’ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে এবং এরমধ্যে ৯০ জন ছেলে শিক্ষার্থীই বোডিংয়ে নামমাত্র খরছে পড়ালেখা করছে। আর তাদের বরাদ্দের চাউল আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্য আলমগীর কাজীর বিরুদ্ধে।
এতিমখানার পরিচালক ও মসজিদের খতিব মুফতি শাহাদাত হোসাইন বলেন, এই এতিমখানার এক সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লা জামি সারা বাংলাদেশের মধ্যে বেফাক পরীক্ষায় ২য় হয়েছে। এখানে ক্লাস রুমগুলোর উন্নয়ন সংস্কার দরকার। বাচ্চাদের পড়ালেখা ও খাওয়া দাওয়ার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষকদের বেতনভাতা নিয়েও সমস্যা রয়েছে। অধিকাংশ এতিম শিক্ষার্থীদের আবাসিকে রেখে নামমাত্র মূল্যে দৈনিক ৩ বেলা খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। আমিসহ ১১ জন শিক্ষক নামমাত্র বেতনে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। যেহেতু দান অনুদান নিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা এতিমখানা চলে, আমরাও এর ব্যতিক্রম নই। সমাজের দায়িত্ববানরা এই এতিমরা যাতে কোনভাবেই কোন বরাদ্দ হতে নয়ছয়ের স্বীকার না হয় সেদিকে নজর রাখতে অনুরোধ রইলো।
এদিকে এতিমদের বরাদ্দের চাউল আত্মসাৎ ও উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি চাউর হতেই ইউপি সদস্য আলমগীর কাজীর বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ উঠতে দেখা যায়। এরমধ্যে ৩নং ওয়ার্ডের একটি মসজিদ উন্নয়নের বরাদ্দ ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মুকুন্দসার মসজিদে দিয়ে দিয়েছেন। ৭নং ওয়ার্ডের পঞ্চায়েত বাড়ির মসজিদের উন্নয়ন তহবিলের টাকা নয়ছয় করেছেন। এমনকি মেনাপুর মাদ্রাসা ও এতিমখানার ইমাম মোয়াজ্জেমদের বরাদ্দের বাৎসরিক টাকাও তিনি পকেটে ঢুকিয়েছেন। কেউ কিছু বললে প্রভাব বিস্তার করে বরাদ্দ বন্ধেরও হুমকি ধমকি তিনি দেন।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ইউপি সদস্য আলমগীর কাজীকে পাওয়া যায়নি। পরে তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি এতিমদের বরাদ্দের চাউল ও উৎকোচের টাকা নিয়ে থাকলে তদন্ত করতে বলুন। প্রমাণ করতে পারলে প্রয়োজনে মেনাপুর বাজারে নাকে খর দিয়ে মাফ চাইবো। ৩ বারের মেম্বার আমি। হজ্বে গিয়ে সেখানে আল্লাহর কাছে বিচার দিবো কেনো এসব অপবাদ আমার নামে সবাই ছড়াচ্ছে।
Reporter Name 






















