ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ই-পাসপোর্টের দীর্ঘ ভোগান্তির পর বিশেষ কনস্যুলার সেবা, স্বস্তিতে ফ্রান্সপ্রবাসীরা নয়দুয়ারী মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচিত লায়ন মনিরুল ইসলাম ইউচুপকে সংবর্ধনা দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে সমন্বিত কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু, দ্রুত মিলবে পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা রামগঞ্জে ৫ বছরের শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার ৭০ বছরের বৃদ্ধ আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বিএনপির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জ ফাউন্ডেশন ঢাকা’র নতুন সাধারণ সম্পাদক সোহাগ জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের নথি যাচাইয়ে ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় পুলিশের তল্লাশি মাদকসেবী বখাটেদের চিহ্নিতের নির্দেশ জেলা প্রশাসকের জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ই-পাসপোর্টের দীর্ঘ ভোগান্তির পর বিশেষ কনস্যুলার সেবা, স্বস্তিতে ফ্রান্সপ্রবাসীরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:২৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ১৪ বার

মামুন মাহিন প্যারিস, ফ্রান্স:

ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, কারিগরি জটিলতা এবং নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে না পারার অভিযোগের পর বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু করেছে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। শনিবার (২৫ জুলাই) শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের প্রথম দিনেই পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ৮০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক ই-পাসপোর্টের আবেদন সম্পন্ন করেছেন।

সম্প্রতি দূতাবাস ই-মেইলের পরিবর্তে ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে। তবে সীমিত সংখ্যক স্লট এবং একযোগে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর প্রবেশের কারণে অনেক প্রবাসী সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেননি। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন, আবার কেউ ই-মেইলে আবেদন করার পরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ছিলেন।

এর প্রভাব পড়ে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমেও। বিশেষ করে প্রেফেকচারে (Préfecture) রেসিডেন্স পারমিট নবায়ন বা অন্যান্য জরুরি প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময়সীমা সামনে থাকায় অনেক আবেদনকারী চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তির মুখে পড়েন।

প্রবাসীদের এই দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রথম ধাপে ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট—এই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দূতাবাস। এ সময় কোনো পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল বলেন, প্রথম দিনের সাড়া অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি জানান, প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি আবেদনকারীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগে যারা ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের আবেদনও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে।

অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে সাময়িক কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিষয়টি আইটি টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে, যাতে সাইটটি আরও সহজ, কার্যকর এবং প্রবাসীবান্ধব করা যায়।

বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে স্থানীয় বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আবেদনকারীদের তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে পুরো কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন তারা।

দূতাবাসের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে তাদের প্রত্যাশা, বিশেষ কনস্যুলার সেবা শুধু সাময়িক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত ও স্থায়ী সমাধানের অংশ হবে। একই সঙ্গে একটি কার্যকর টেলিফোন হেল্পলাইন চালু, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও ব্যবহারবান্ধব করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কনস্যুলার সেবায় জনবল বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।

প্রবাসীদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

ই-পাসপোর্টের দীর্ঘ ভোগান্তির পর বিশেষ কনস্যুলার সেবা, স্বস্তিতে ফ্রান্সপ্রবাসীরা

ই-পাসপোর্টের দীর্ঘ ভোগান্তির পর বিশেষ কনস্যুলার সেবা, স্বস্তিতে ফ্রান্সপ্রবাসীরা

আপডেট টাইম : ০৩:২৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মামুন মাহিন প্যারিস, ফ্রান্স:

ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, কারিগরি জটিলতা এবং নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে না পারার অভিযোগের পর বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু করেছে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। শনিবার (২৫ জুলাই) শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের প্রথম দিনেই পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ৮০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক ই-পাসপোর্টের আবেদন সম্পন্ন করেছেন।

সম্প্রতি দূতাবাস ই-মেইলের পরিবর্তে ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে। তবে সীমিত সংখ্যক স্লট এবং একযোগে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর প্রবেশের কারণে অনেক প্রবাসী সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেননি। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন, আবার কেউ ই-মেইলে আবেদন করার পরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ছিলেন।

এর প্রভাব পড়ে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমেও। বিশেষ করে প্রেফেকচারে (Préfecture) রেসিডেন্স পারমিট নবায়ন বা অন্যান্য জরুরি প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময়সীমা সামনে থাকায় অনেক আবেদনকারী চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তির মুখে পড়েন।

প্রবাসীদের এই দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রথম ধাপে ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট—এই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দূতাবাস। এ সময় কোনো পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল বলেন, প্রথম দিনের সাড়া অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি জানান, প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি আবেদনকারীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগে যারা ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের আবেদনও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে।

অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে সাময়িক কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিষয়টি আইটি টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে, যাতে সাইটটি আরও সহজ, কার্যকর এবং প্রবাসীবান্ধব করা যায়।

বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে স্থানীয় বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আবেদনকারীদের তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে পুরো কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন তারা।

দূতাবাসের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে তাদের প্রত্যাশা, বিশেষ কনস্যুলার সেবা শুধু সাময়িক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত ও স্থায়ী সমাধানের অংশ হবে। একই সঙ্গে একটি কার্যকর টেলিফোন হেল্পলাইন চালু, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও ব্যবহারবান্ধব করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কনস্যুলার সেবায় জনবল বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।

প্রবাসীদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।